একবার ঘোষনা দিন “যার যা আছে তা নিয়েই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াও” দেখবেন শরীরের রক্ত বিক্রি করে হলেও মানুষ এগিয়ে যাচ্ছেঃ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি লক্ষ লক্ষ তরুন

মুহাম্মদ গাজী তারেকঃ রোহিঙ্গা মুসলিম শরনার্থীদের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে কোটি কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে মায়ানমারের প্রতি উত্তপ্ত ক্ষোভ ও আরাকানের নির্যাতিত মুসলিমদের সহানুভূতিশীলতায় ছেয়ে গেছে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ঘুরে দেখা যায় লক্ষ লক্ষ ফেসবুক ব্যবহারকারীই তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক টাইমলাইনে আরাকানের নির্যাতিত মুসলিমদের ক্ষত-বিক্ষত দেহের ছবি শেয়ার করেছেন এবং সাথে সাথে মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করারও মন্তব্যগুলো বর্তমানে ফেসবুকের কোটি মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন সহ সকল পেশার মানুষেরাও রোহিঙ্গা মুসলমানদের সহযোগিতায় ফেসবুকে উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে জোর দাবিও জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, গত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি, লেখক ও গবেষক মুহিব খান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে “আপনি শুধু অস্ত্র ও প্রশিক্ষন দিন, আমি একলক্ষ তরুণ যোদ্ধা দেবো” শীর্ষক সংবাদটি প্রায় অর্ধ লক্ষাধিকেরও বেশি বার শেয়ার হয়েছে এবং এর সাথে লক্ষ লক্ষ তরুণ ইতিমধ্যেই জাগ্রত কবি মুহিব খানের সাথে একমত হয়ে নিজেদের ইচ্ছা ও মতামত প্রদান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মুহাম্মদ আরিফ রাব্বানী নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে গত ০৯-০৯-১৭ তারিখে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আরাকানের নির্যাতিম মুসলিম মা-বোনদের রক্ষায় এভাবেই নিজ আবেদন পেশ করেন-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
মহান আল্লাহ্ পাকের দরবারে অশেষ শুকরিয়া যে, এই বয়সে এসেও আপনি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করে যাচ্ছেন । সঙ্গে সঙ্গে দেশের জটিল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা অত্যন্ত নিপুণভাবে সমাধান করে যাচ্ছেন। আপনি এই দেশকে ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছেন। হত-দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে সবসময় আপনাকে দেখা যায়। আপনার কল্যানেই এদেশের বেকারত্বের হার এখন অনেক কম। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ‘সঙ্গে থাকার’ কথা দিয়েছেন আপনি। ভারত থেকে পালিয়ে আসা ‘হাতি’কেও আপনি যথাযোগ্য মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। দেশের সব ধর্মকেই আপনি যথাযথ সম্মান করে থাকেন। যে ধর্মের লোকই হোক না কেন আপনি তার আবেদন পূরণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করে থাকেন। সর্বোপরি মানবকল্যাণের সর্বদিকেই আপনার সাহায্যের হাতকে খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ আপনি এমন এক রাষ্ট্রনায়কের গর্বিত কন্যা যিনি মানবতার প্রশ্নে কখনো পিছু হটেন নি। যিনি দুর্দশাগ্রস্থ অসহায় নিঃসম্বল মানুষের সামনে নিজকে সপে দিয়েছিলেন। সেই মহান ব্যক্তির আদর্শেই তো আপনি বেড়ে উঠেছেন। তার চেতনায়ই তো আপনি লালন করে থাকেন। সুতরাং তার প্রতিচ্ছবি আপনার মাঝে ফুটবে এটাই স্বাভাবিক। আপনি দেশ ও জনগণের তরে অনেক করেছেন। জনগণের চাহিদা মেটাতে আপনি কখনো কার্পণ্য করেন নি। তাই আপনার কাছে ষোল কোটি জনগণের এখন চাহিদা বা পরম চাওয়া হচ্ছে ‘মানবতার তাগিদে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর’। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার। আপনি হয়তো দেখেছেন, এদেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও নপুংসকসহ আপামর জনগণ এখন রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আবেদন জানাচ্ছে বিশ্বদরবারে। ঠিক এই মুহুর্তে আপনার সামান্য উদ্যোগ কিংবা চেষ্টায়ই আপনাকে ‘শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদি’র আসনে নিয়ে যেতে পারে। আপনি হয়ত ঘাবড়ে গেছেন যে, এত মানুষের ভরণপোষণ কোথা থেকে দেব ? ঘাবড়ানোর কিছু নেই। যদি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে খাদ্যাভাব থাকে তাহলে শুধু একবার ঘোষণা করেন, ‘যার যা আছে তা নিয়েই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াও’ দেখবেন শরীরের রক্ত বিক্রি করে হলেও মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ‘গণহত্যা’ ঠেকাতে যদি রাষ্ট্রীয় সামরিক জান্তারও অভাব হয় তাহলেও ঘোষণা দিন, ‘বার্মার গণহত্যা ঠেকাতে যারা যুদ্ধে যেতে চাও তারা আধ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের নাম-ঠিকানা জমা দাও’ দেখবেন পঙ্গপালের মত মানুষ হুমরি খেয়ে পড়বে নিজেদের নাম জমা দিতে। অথবা যদি মনে করেন যে, এই হত্যাযজ্ঞের ব্যাপারে বিশ্বদরবারে আবেদন করতে কোটি মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত ডকুমেন্ট লাগবে। তাহলেও আমরা প্রস্তুত। মোট কথা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানকল্পে আপনার যে কোনো উদ্যোগই আমরা অভিবাদন জানাবো ইনশাআল্লাহ্।
ইতি
মুহাম্মাদ আরিফ রব্বানী
ছাত্র,জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলূম(মাদরাসা)
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

ঠিক এভাবেই বর্তমানে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ রোহিঙ্গা মুসলিমদের সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী’র বরাবর আবেদন জানিয়েছেন। আর তরুণ প্রজন্মের অনেকেই বলছেন “আমি ৭১ দেখিনি, ১৭ দেখেছি”। এসময় খুব উৎসাহের সাথে এক তরুণ জানান, “আমরা বীরের জাতি, আমরা জানি কিভাবে জালিমকে শায়েস্তা করতে হয়। একাত্তুরে আমাদের বাপ-দাদারা যেভাবে অস্ত্র ধারণ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে, বর্তমানে আমরাও রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে মায়নমারকে উপযুর্ক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত আছি, প্রধানমন্ত্রী আপনি শুধু একবার নির্দেশ দিন।”






Related News

  • কণ্ঠ শিল্পী আব্দুল জব্বারের মৃত্যু’তে কবি সবুজের শোক প্রকাশ
  • ইঞ্জিঃ মাহবুব আলম কে বরুড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চায় এলাকাবাসি
  • মুন্সিগঞ্জে বাসায় ঢুকে সাংবাদিককে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা!
  • মরমি শিল্পী আবদুল আলীমের জন্মদিন
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *