Logo
,


সংবাদ শিরোনাম:
«» মুলাদীতে ৩য় শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ ॥ মামলা দায়ের «» কুলাউড়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার আওয়ামীলীগের কয়েকটি পরিবার! «» মাদারীপুরের অ্যাডভোকেট মহসিন একটু সাহায্যেই বেঁচে যাবে ভারতের মনিপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন? «» চেয়ারম্যানের দায়িত্বে জিএম কাদের এরশাদের অবর্তমানে «» এরশাদ সত্যিই অসুস্থ-পরশু সিঙ্গাপুর যাবেন-অসুস্থতা নিয়ে নানা প্রচারণা… «» চলচ্চিত্রের অভিনেতা তানভীর হাসানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার «» সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার তথ্যমন্ত্রীর «» সফলতায় সংবাদ মাধ্যম এবং ওলামায়ে কেরামসহ সকলের দোয়া কামনা করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ  «» চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে «» জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব রাঙ্গাকে গনসংবর্ধনা

কুমিল্লা-১০ প্রচারণায় আওয়ামী লীগ, গ্রেপ্তার হয়রানিতে বিএনপি

  • স্টাফ রিপোর্টারঃ
    কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ, লালমাই) আসনে প্রচারণায় ব্যস্ত আওয়ামী লীগ। প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এলাকার সর্বত্র বিরামহীনভাবে পথসভা এবং গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন তিনি। এছাড়া তিনটি উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পথসভা, উঠান বৈঠক এবং কর্মিসভার মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের পোস্টার এবং মাইকিংয়ে সর্বত্র সরব রয়েছে।

    অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা নেই বললেই চলে। কোথায়ও পোস্টার এবং মাইকিং এর দেখা মেলে না। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা হামলা-মামলার ভয়ে এলাকাছাড়া।

    ভোটের মাঠে বিএনপি না থাকায় নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের নীরবতা লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনে এক পক্ষ মাঠে না থাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ নেই।

    গত ১৯শে ডিসেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ফুলতলা মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের উপস্থিতিতে জনসভার মাধ্যমে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কারাবন্দি মনিরুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা দৃশ্যমান হয়। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য দু’জন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভুঁইয়া ও নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া জেলে থাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার ভয়ে নির্বাচনী মাঠে নেই।

    বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে তার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস তিনটি উপজেলার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে ঘরোয়া মিটিংসহ তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকার কৌশল নির্ধারণ করে যাচ্ছেন। জানা যায়, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী ২০১৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমা হামলায় বাসের ৮যাত্রী নিহতের ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার দুইটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। গত ২৪শে অক্টোবর জেলা জজ আদালতে হাজির হলে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেন। কুমিল্লা জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভুঁইয়াকে গত ১৫ই ডিসেম্বর শনিবার নাঙ্গলকোট থানায় করা অস্ত্র মামলায় ঢাকার হাইকোর্ট এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ আটক করে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করে। গত ২৩শে সেপ্টেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়াকে ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশ আটক করে হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করায় তিনি জেলে রয়েছেন।

    এদিকে, নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদল সভাপতি আনোয়ার হোসেন নয়নকে র‌্যাব কুমিল্লা থেকে আটক করে নাঙ্গলকোট থানায় সোপর্দ করে। পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীরা জেলে রয়েছেন। অনেকে আবার জামিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। সদর দক্ষিণ উপজেল বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দুই মাস জেল খেটে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। অধিকাংশ নেতা জেলে থাকায় বিএনপি এখন নেতৃত্বশূন্য।

    গত ১৯, ২০ এবং ২২শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি নাঙ্গলকোটের দৌলখাড় উচ্চ বিদ্যালয়, বটতলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, বক্সগঞ্জ, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন, বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঙ্গড্ডা বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রায়কোট উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের মাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়, ঝাটিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢালুয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং হেসাখাল, পাটোয়ার, ময়ুরা উচ্চ বিদ্যালয়, মক্রবপুর ইউপির ভুলুয়াপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠ এবং পেড়িয়ায় নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রী সদর দক্ষিণ এবং লালমাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত পথসভা ও গণসংযোগ করে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। বিভিন্ন পথসভায় পরিকল্পনামন্ত্রী তার বক্তব্যে নির্বাচনী এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন।

    তিনি আগামী ৩০শে ডিসেম্বর নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। মনিরুল হক চৌধুরীর মেয়ে চৌধুরী ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, আমার বাবার প্রতি সাধারণ জনগণ ও নেতা-কর্মীদের ভালোবাসার তাগিদে ঘরোয়া মিটিংগুলো জনসভায় রুপান্তর হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষ নির্বাচনী পরিকল্পনা করার মতো পরিস্থিতি দিচ্ছে না। তারা আমাদের নেতা-কর্মীদের হুমকি-ধমকি, মারধর ও পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না। নেতা-কর্মীদের নামে নতুন করে মামলা দিচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে সব জায়গায় বাধা সৃষ্টি করছে। এতকিছুর পরও ভোটাররা মনোবল হারাচ্ছে না। আমার বাবা একজন স্বাধীনতার সংগঠক। বীর মুক্তিযোদ্ধা। অথচ বিজয়ের মাসে তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে।

    উনি কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। উনার হার্টে তিনটি রিং বসানো হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় হাত ভেঙ্গে গেছে। ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে। ফিজিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে না। উনার অবস্থা সংকটাপন্ন। আমার বাবা ঘোষণা দিয়েছেন আমি লাশ হয়ে গেলেও নির্বাচনে থাকবো। আমরা সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবো। আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমার বাবার প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য আজকে আমি মাঠে নেমেছি। আমি চাই আমাদের স্বাধীনতাটা সবার জায়গায় সবাই ফিরে পাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Skip to toolbar