,


সংবাদ শিরোনাম:
«» এস.এম. আজহারুল ইসলাম স্মৃতি নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন অন্বেষা ক্লাব «» সামাজিক ও মানবিক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলো শাকপুর ইউনিয়ন অনলাইন ব্লাড ব্যাংক। «» জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন বন্যা ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে «» মোহনা টিভির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মুশফিকুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়েছে «» আত্মত্যাগের বিনিময়েই হয় কোরবানি  «» উত্তরাতে বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতির নতুন কমিটি গঠন «» ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাককানইবি’তে ছাত্রলীগের পরিচ্ছন্নতা অভিযান «» জাককানইবি’র অধীনে এমডিএস কোর্সের পূণর্মিলনী অনুষ্ঠিত «» টঙ্গীর সাংবাদিকদের সাথে গণসচেতনতামূলক মতবিনিময়ে আওয়ামীলীগের নেতারা! «» জাককানইবি’তে বঙ্গবন্ধু নীলদলের মাস ব্যাপি কাল ব্যাজ ধারণ কর্মসূচী

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন বন্যা ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে

বন্যা ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ

আস্সালামু আলাইকুম। আপনারা আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন। আপনারা হয়তো ইতোমধ্যেই অনুধাবন ও উপলব্ধি করছেন যে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের শুরু থেকেই আমার সাংগঠনিক কর্মকান্ড ও কার্যতৎপরতা সম্পর্কে সবিস্তারে আপনাদের অবহিত করার চেষ্টা করছি। কারণ, আমি বিশ্বাস করি- অবাধ তথ্য প্রবাহ ছাড়া রাজনৈতিক তৎপরতায় গতিশীলতা আসবেনা। যেকোনো বিষয় নিয়ে আপনাদের মুখোমুখি হতে পারলে জবাবদিহিতা যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি আপনাদের মতামত, অভিমত কিংবা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ত্রæটি-বিচ্যুতি অভিমত কিংবা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ত্রæটি-বিচ্যুতি পরিমার্জনের সুযোগ পাওয়া যায়।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা
আপনারা জানেন, দেশে এখন ভয়াবহ দুটি বিপর্যয় গোটা দেশবাসীকে পর্যুদস্ত করে ফেলেছে। একদিকে বন্যা অপরদিকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। এ জাতীয় যেকোনো পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টি সবসময় জনগণের কাছে থাকে। এই নীতি ও আদর্শ আমরা পল্লীবন্ধু এরশাদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারভাবে পেয়েছি। তাই সাম্প্রতিক বন্যায় আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমাদের সাধ্য অনুসারে আমরা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। সেটা হয়তো প্রয়োজনের তুলনায় খুব সামান্য ছিলোÑ কিন্তু আমাদের যে চেষ্টায় কোনো ত্রæটি ছিলনা তা হয়তো আপনারা উপলব্ধী করেছেন। আমরা সাধ্য অনুসারে সম্পুর্ণ নিজেদের চেষ্টায়, নিজেদের অর্থে বন্যার্ত মানুষের কাছে কিছু ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। তার মধ্যে ছিল- চাল, চিড়া, গুড়, বিস্কুট, দিয়াশলাই ইত্যাদি। আমাদের একটি মেডিকেল টিম দূর্গত এলাকায় খাবার স্যালাইন এবং জ্বর, আমাশয় বা নানাবিধ পেটের পীড়ার ঔষুধ সরবরাহ করেছে এবং রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছে। আমরা জামালপুর, শেরপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার অতি দূর্গত এলাকায় আমার দলের নেতাকর্মীরাÑ আমাদের নিজস্বভাবে যোগান দেয়া ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। আমরা সরকারের কাছ থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করিনি কিংবা রাস্তায় দাড়িয়েও মানুষের কাছ থেকে সাহায্য সংগ্রহ করেনি। যা করেছি- তা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করেছি এবং সেটাই বিতরণ করেছি।

সাংবাদিক বন্ধুরা
আপনারা হয়তো দেখেছেন- আমি তিনদিন হেলিকপ্টারযোগে ৪ জেলার বন্যা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছি। আমার এই যাওয়াটা ত্রাণ বিতরণ করতে যাওয়া না। আমি বন্যা পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে চেয়েছি। তা হেলিকপ্টার ছাড়া দেখা সম্ভব ছিলনা। যা দেখেছি তার ভয়াবহতা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরেছিÑ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি- বন্যার্তদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেবার জন্য। দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি সেই কাজটিই করেছি। এর পাশাপাশি বন্যা দূর্গত মানুষকে সাহস যোগানোর চেষ্টা করেছি। বন্যা দুর্গত মানুষের কাছে যখন গিয়েছি Ñ তখন কর্মীদের উৎসাহ দেয়ার জন্য আমিও কিছু ত্রাণ বিতরন করেছি। তবে মুল কাজটি করেছে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীরা এবং আমাদের মেডিকেল টিম।

এখানে উল্লেখ্য, ত্রাণ বিতরনসহ বন্যার্থ মানুষের পুনঃর্বাসনের দায়িত্ব সরকারের। এ সংক্রান্ত সকল ধরনের সম্পদ ও সুবিধাদি তাদের অধিনে ন্যস্থ থাকে। আমরা আমাদের সাধ্যমত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।

অনেক বন্যার্ত মানুষ বলেছেন, তারা ত্রাণ চান না, তাদের দাবী বন্যা যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করা। সব এলাকায় একই সঙ্গে এ ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে করতে হবে। তাছাড়া বিষয়টি সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তবে ত্রাণ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও কার্যকর করা যেতে পারে। এখন যা ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট নয় ও বিতরনে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। তাছাড়া সময়মত বা দ্রæততার সঙ্গে ত্রাণ পৌছে না এ অভিযোগও আছে।

যে সকল এলাকা প্রায় বছরই বন্যা কবলিত হয়, সেখানকার জনগোষ্ঠীকে তালিকাভূক্ত করে কার্ড দেয়া যেতে পারে। বন্যা কবলিত হওয়া মাত্র, মাত্রা দেখে দুর্গত এলাকা চিহ্নিত করে, তালিকা মাফিক ত্রাণ বিতরন করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ধরনের এলাকার জন্য সবসময় প্রয়োজনীয় ত্রাণ মজুদ রাখতে পারে।
আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু এরশাদ দক্ষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপক হিসাবে সুখ্যাতি পেয়েছেন। তার শাসনকালীন সময়ে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় একটি মানুষকেও বন্যাজনিত কারনে মরতে দেননি। আমরা তাঁর অনুসারী, তাঁর আদর্শ ও কর্মউদ্দীপনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বন্যার্থদের সেবায় কাজ করেছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা অত্যান্ত উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, দেশ এখন ভয়াবহ ডেঙ্গুর কবলে আক্রান্ত। সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। তার মধ্যে বেশীর ভাগই শিশু। এই পরিস্থিতি সহ্য করা যায়না। প্রতিটি মানুষ এখন আতঙ্ক-উদ্বেগের মধ্যে সময় পার করছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে, এটা মোকাবেলা করা যায়নি। এই বাস্তবতা কর্তৃপক্ষকে মেনে নিতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় ব্যর্থতা অবশ্যই ছিলো। যখন এতটা বিস্তার ঘটেনিÑ তখনই আমরা সতর্ক হবার আহŸান জানিয়েছি। আপনাদের নিশ্চয় মনে থাকবে যে, পল্লীবন্ধু এরশাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি জানানোর সময়ও আমি আপনাদের মাধ্যমে ডেঙ্গু মোকাবেলার জন্য সতর্ক করে দিয়েছিলাম। তখন যদি এডিস মশা নিধনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হতো তাহলে হয়তো বিপর্যয়টা এতো ভয়াবহ হতো না।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার ঘটে জমে থাকা পরিস্কার পানি থেকে। রাস্তায় ঝাড়– দিয়ে ডেঙ্গু দূর করা যায়না। বর্ষায় সানসেটে জমে থাকা পানি, ঘরের মধ্যে ফুলের টবে জমানো পানি, কিংবা ফ্রিজের নিচে জমানো পানি অথবা বিভিন্নভাবে জমে পড়া পানিতেই এডিস মশার জন্ম। এব্যাপারে সচেতন করাই ছিলো সরকারের প্রথম কাজ। তারপর মশা নিধনের ঔষুধেই যদি ভেজাল থাকে তাহলে ভালো ফল তো আমরা কোনোভাবেই পাবোনা। এতদিন বলা হতো ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত মানুষের অসুখ। কিন্তু এবার ধনী-গরীব সবাইকে আক্রান্ত করেছে।

আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানাতে চাই যে, যেকোনো হাসপাতালেই ডেঙ্গু চিকিৎসা ফ্রি করে দেয়া হোক। প্রয়োজনে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিকের সাথে সাময়িক ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারী হাসপাতালের খরচ সরকারকে দিতে হবে।

এছাড়া আমি ডেঙ্গু মোকাবেলায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমাদের দলের নেতাকর্মীসহ সমাজের সকল সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহŸান জানাই।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা- আপনারা নিশ্চয় আমার মনোভাব, উদ্দেশ্য এবং কর্মকান্ডের মর্মার্থ উপলব্ধি করবেন এবং আমার বক্তব্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে আমাকে কৃতার্থ করবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব- মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য- সুনীল শুভ রায়, শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা- নুরুল আজাহার, মাহামুদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান- সরদার শাহজাহান, জহিরুল আলম রুবেল, যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, সুলতান আহমেদ সেলিম, সম্পাদক মন্ডলী- ফখরুল আহসান শাহজাদা, সুলতান মাহমুদ, এম.এ. রাজ্জাক খান, মোস্তফা আল মাহমুদ, মিজানুর রহমান মিরু, এ্যাড. এনামুল হক, আবু সাঈদ স্বপন, কেন্দ্রীয় নেতা- মাসুদুর রহমান চৌধুরী, এনাম জয়নাল আবেদীন, এ্যাড. আবু তৈয়ব, জাকির হোসেন মৃধা, সোলায়মান সামি, ফারুক শেঠ, আনোয়ার হোসেন তোতা, ছাত্রসমাজের সদস্য সচিব ফয়সল দিদার দীপু।

(গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি)
চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।

Developed By H.m Farhad

Skip to toolbar