,


সংবাদ শিরোনাম:

প্রকৃতি প্রেমিদের স্বর্গীয় সুখ মিলবে যেথায় গেলে !

প্রকৃতি প্রেমিদের স্বর্গীয় সুখ মিলবে যেথায় গেলে 

সজিব আহমেদ সজল :: 
গ্রমের নাম ট্যাকেরঘাট।নৈস্বর্গীক সুন্দর্যের এক অপরুপ লীলাভূমি।
হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমি দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটা এখন ছোট্ট ভূস্বর্গ হিসেবেই পরিচিত।
পেছনের দিকটায় দাড়িয়ে আছে সুবিশাল মেঘালয় পাহাড়।

 

বর্ষাকলে যার পাহাড়ি ঢল
সুউচ্চ জলপ্রপাতকেউ হার মানায়।
সামনের দিকে মাতৃগর্ভের মতো নিরবনিস্থব্ধ জলরাশি।

মাঝখানটায় সমতল ভূমি। যেখানে আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে
গড়ে ওঠেছিলো শহুরে আঙ্গিকে সাজানো ছোট্ট একটি গ্রাম।
আজ থেকে ৭০ বছর আগেও
যখন জেলা শহরের বাইরে কোথাও কোনো বৈদ্যুতিক খুটি গাথা হয়নি, তখনো সন্ধ্যার
আবছা অন্ধকারে সামনের নিরব জলরাশির উপর ছায়া পরতো জোনাকি পোকার মত প্রায়
একসাথে জলে ওঠা শত শত বৈদ্যুতিক বাতির। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তো সৌন্দর্য । দূর থেকে মনে হতো ছোট্র একটা স্বর্গ। এখানে মানুষের সকাল বেলা
ঘুম ভাঙ্গতো মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজানের ধ্বনিতে, যার সুর উপছে পড়তে
নিস্থবদ্ধ পাহাড়ের গায়ে আর তা প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসতো ঘুমন্ত মানুষ গুলোর শ্রান্ত হৃদয়ে।

বাচ্চাদের জন্য স্কুল, বড়দের জন্য ক্লাব, হাসপাতাল,
মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, শহিদ মিনার সবই ছিলো এই গ্রামে। দুপুর বাড়ার সাথে সাথে শুরুহতো সকলের কর্মব্যাস্থ জীবন। দুপুরের প্রখর রোদেও ভেসে আসতো
রেলগাড়ির ঝকঝক ঝকঝক শব্দ। রেলগাড়িগুলো এই গ্রামের নিজস্ব রেল লাইন দিয়েই
চলতো। এরা যাত্রীবাহী নয়, মাল বাহী। সেই রেল লাইন, রেল গাড়ি আজও আছে,
শুধু প্রাণহীন।

এখান থেকে মাত্র ৭-৮ কিলোমিটার দূরেই সীমাহীন নীল জলরাশির আধাঁর রামসার সাইট খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বিখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর। যেখানে একই সাথে মাছ, গাছ, পাখি আর বন্য প্রাণির অবাদ বিচরন।
যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। বর্ষার মৌসুমে হাওরের বুকে উপছে পরে ছোট ছোট পাহাড় আকৃতির শত সহস্র ঢেউ যা দেখতে
ভয়ংকর একই সাথে অপরুপ !

ট্যাকেরঘাটের ৩-৪ কিলোমিটার পূর্বপাশে রয়েছে প্রকৃতি প্রেমিদের অন্যতম
আকর্ষন বিখ্যাত বারিকের টিলা, যাদুকাটা নদী, লাউরের গড়, কড়ইগড়ার রাজবাড়ি,
হযরত শাহ জালাল (রা) এর সফরসঙ্গি হযরত শাহ আরেফিনের মাজার,শ্রীঅদ্বৈত
মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজরিত হিন্দুধমাবলম্বিদের পবিত্র স্থান খ্যাত পণাতীর্থ
সহ অসংখ্য দর্শণীয় স্থান। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দর্শণীয় স্থান ‘নীলাদ্রি’ এই ট্যাকেরঘাটেই অবস্থিত।
এছাড়া সিলেটের বিছানাকান্দির সমতুল্য
লাকমা ছড়াও রয়েছে এই গ্রামের পশ্চিম পাশেই
। সবকিছু মিলিয়ে যেন প্রকৃতির এক অখন্ড সুন্দর্য্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে
রয়েছে এর চার পাশে।
আমার বিশ্বাস সময়ের হাত ধরে অচিরেই এই সৌন্দর্য লক্ষ লক্ষ পর্যটকের হৃদয়ে
স্থান করে নিবে এবং বিশ্বমাপের পর্যটন নগড়ি হিসেবে গড়ে ওঠবে। সুনামগঞ্জ জেলার, তাহিরপুর থানায় অবস্থিত সুন্দর্যের লীলাভূমি ‘ ট্যাকেরঘাট’।

লেখক : সজিব আহমেদ সজল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।

Developed By H.m Farhad

Skip to toolbar