,


সংবাদ শিরোনাম:
«» আসুন প্রকৃত বাঙ্গালী হই ! সাংবাদিক রোকন «» নেত্রকোনায় ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত। «» মুন্সীগঞ্জে লবনের দাম বৃদ্ধির গুজবে হাট বাজারে লবন কেনার ধুম । দোকান গুলোতে লবন শূন্য ৪৫ জন দোকানিকে কে জরিমানা «» বি পি এল কে কোন দলে, জানলে অবাক হবেন। «» স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বেড়ে ওঠা সম্ভাবণাময় ক্ষুদে কবি মুহাম্মদ সবুজ হোসেন «» পেঁয়াজের পর এবার চালের বাজারে আগুন «» মুরাদনগরের ‘বাঙ্গরাবাজার প্রেসক্লাব’ গঠিত জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল সভাপতি, আবুল কালাম আজাদ সাধারণ সম্পাদক «» বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানাধীন মাদ্রাসাঘাট এলাকা হতে ১৭৭ পিচ ইয়াবাসহ ০১ জন ইয়াবা ব্যবাসয়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। «» উত্তরা ১২ নং সেক্টর বালুর মাঠ বস্তিতে মাদক-দখল বাণিজ্যে কালাম অপ্রতিরোধ্য! «» জাককানইবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় ইসি’র কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চাকরি করা এক হাজার ১৩০ জন কর্মচারী তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন একই বেতনে চাকরি, উৎসব বা বোনাস ভাতা না পাওয়া, চাকরি স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়াসহ নানা কারণে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এ অবস্থায় চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, চাকরি স্থায়ীকরণ করা না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে নামতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয় প্রকল্প থেকে এই মুহূর্তে রাজস্বে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জানা যায়, নির্বাচন কমিশন ২০১৬ সালের মার্চে ১৩ হাজার টাকা বেতনে এক বছর মেয়াদি ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস’ নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ে সারাদেশের উপজেলা নির্বাচন অফিসে এক হাজার ১৩০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ দেয়।

একাধিকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ২০১৬ সালের পর ২০১৯ সালে এসে মাত্র ৪ হাজার টাকা বেতন বাড়ে। কিন্তু বোনাস বা উৎসবভাতা প্রাপ্তির বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। চলতি মাসের ৩০ তারিখে চলমান মেয়াদ শেষ হবে। তবে প্রজেক্টের মেয়াদ ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগের মহাপরিচালক চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশ্বাসের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তারা জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত প্রায় সব কাজই করতে হয় এ দপ্তরে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ প্রতিটি নির্বাচনেই তারা নিষ্ঠার সাথে গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব পালন করেন। এ প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকেই ২০০৭ সাল থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে জড়িত রয়েছেন, যাদের অধিকাংশেরই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে।

তাই স্থায়ীকরণ না হওয়া পর্যন্ত মানসিকভাবে স্বস্তি পাচ্ছেন না তারা। একই সাথে হতাশায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, আমরা এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য আবেদন করেছি।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়টি নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। বরং তারা উদাসীন ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।এদিকে চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগহণের অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব বরাবর সমপ্রতি একটি লিখিত আবেদন করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, আমরা ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস’ প্রকল্পের আওতায় যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে ‘ডাটা এন্ট্রি অপারেটর’ পদে ২০১৬ সালের ১ মার্চ যোগদান করি। এখন পর্যন্ত আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছি।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ সহযোগিতায় বিগত ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্পের (অপারেশন নবযাত্রা প্রকল্প) শুরু থেকেই উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন হালনাগাদ কার্যক্রমে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে আমাদের অনেকেই এই কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।

সেখানে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সর্ববৃহৎ তথ্য সংবলিত ডাটাবেজ সার্ভার তৈরির কার্যক্রমে আমরাই প্রতিটি গ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য সমৃদ্ধকরণে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী যা প্রায় ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন ভোটারের বিশাল তথ্য সংবলিত ডাটাবেজ।

আবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সকল নাগরিকের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে ছবিসহ ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের নিবন্ধন ফরম-২ স্ক্যানসহ অফিসারদেরও বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এ অবস্থায় চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর প্রতি থানা/উপজেলায় একজন করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদের বিপরীতে ৫১৭টি পদ সৃজন করে বলেও জানান এ পদে কর্মরতরা।

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে কর্মরত অমরেশ সরকার আমার সংবাদকে বলেন, ২০১৬ সালের মার্চে নিয়োগ দেয়ার পর এ পর্যন্ত একাধিকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিকবার চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাসও দেয়া হয়েছে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। নির্দিষ্ট বেতনে দীর্ঘদিন চাকরি করলেও আমরা কোনো উৎসবভাতা বা বোনাস পাই না। আবার প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। ইসি আমাদের চাকরি স্থায়ী না করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে।

এ পদে কর্মরত মোহাম্মদ জাহিদ আকবর বলেন, আমরা একাধিকবার চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন করেছি। মৌখিক আশ্বাসও পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত তা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থকেছে। চাকরি স্থায়ী না করা হলে বিপদে পড়ে যাবো।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির পরিচালক, পরিচালনা (এনআইডি) আবদুল বাতেন বলেন, ডাটা এট্রি অপারেটর পদে সরকার ২০১৬ সালে প্রজেক্টের মাধ্যমে যাদের নিয়োগ দেয় ইতোমধ্যে একাধিকবার তাদের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

চলতি মাসে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে সরকার প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত করেছে। তবে স্থায়ীকরণ করা হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত সরকারের বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমান বলেন, ?প্রকল্প থেকে রাজস্বতে আসার তেমন কোনো সুযোগ এই মুহূর্তে নেই। তবে সরকার চাইলে করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।

Developed By H.m Farhad