,


সংবাদ শিরোনাম:

রেলের যত বড় দুর্ঘটনা

মুহাম্মাদ মহাসিন: দুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না রেলের। সিগন্যাল অমান্য করা, চালকের অসাবধানতা ও খামখেয়ালির কারণে কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক এসব দুর্ঘটনার মধ্যে কসবার মন্দবাগ স্টেশনে সোমবার রাতের দুর্ঘটনাটি হচ্ছে সবচেয়ে বড়। সিগন্যাল অমান্য করে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের ওপর উঠে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। ভয়াবহতার দিক থেকেও এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্য যে কোনো দুর্ঘটনার চেয়ে ভয়াবহ ছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসে বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা আছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। রেলওয়েসূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালের ১৫ জানুয়ারি টঙ্গীর অদূরে মাজুখান নামক স্থানে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা গেছেন অন্তত ১৭০ জন। দুর্ঘটনায় ৪ শতাধিক লোক আহত হন। ১৯৮৩ সালের ২২ মার্চ ঈশ্বরদীতে রেলসেতুর স্প্যান ভেঙে ট্রেন নিচে পড়ে গেলে মারা যান ৬০ জন। ১৯৮৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের অদূরে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় মারা যান ১৩ জন। ১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দিনাজপুরের হিলি স্টেশনে স্টেশনমাস্টার ও পয়েন্টম্যানের ভুলে দুর্ঘটনার শিকার হয় পার্বতীপুরগামী একটি লোকাল ট্রেন। এতে ২৭ ব্যক্তি মারা যান। ২০১০ সালে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর মহানগর গোধূলি ও ঢাকাগামী মেইল ট্রেন চট্টলার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ১২ জন মারা যান। এরপর সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ স্টেশনে ঘটল সর্বশেষ বড় দুর্ঘটনাটি। চট্টগ্রামগামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ক্রসিংয়ের জন্য মন্দবাগ স্টেশনের লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনটির শেষ কোচ লুপ লাইনে ঢোকার আগেই বিপরীত থেকে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা-নিশিতা ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা দেয় উদয়নের শেষ বগিতে। তাতেই ঘটে বড় দুর্ঘটনা, মারা যান ১৬ জন। এখনো অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রেলওয়ে সূত্রগুলো বলছেন, সিগন্যাল অমান্য করে তূর্ণা নিশিতা স্টেশনে ঢুকে পড়ার কারণেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব বড় দুর্ঘটনার বাইরেও প্রায় নিয়মিতই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল বিভাগে। ২৩ জুন কুলাউড়া-সিলেট রেলপথের বরমচাল নামক স্থানে বড়চড়া সেতুর স্লিপার ভেঙে নিচে পড়ে যায় আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেস। এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া স্টেশনে একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বদলের সময় দুর্ঘটনায় মারা যান একজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।

Developed By H.m Farhad