রোহিঙ্গাদের ত্রাণে ভাগ বসায় বখতিয়ার নামের কলঙ্ক উখিয়ার ইউ পি সদস্য!

মুহাম্মদ গাজী তারেকঃ আরাকানে যখন রোহিঙ্গাদের উপর চলছে নৃশংস গণহত্যা ও জুলুম নিপীড়ন, তখন প্রাণ বাঁচানোর তাগিদেই পাশ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে ছুটে এসেছে প্রায় লক্ষ লক্ষ আরকানী মুসলমান (রোহিঙ্গা)। বার্মার বর্বর সেনাবাহিনী ও সেদেশীয় বৌদ্ধদের নির্যাতনের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যখন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জায়গাগুলোতে এসব আরাকানী মুসলমান ঠাই নিয়েছেন, ঠিক তখন সেখানেও (উখিয়া) স্থানীয় নেতাদের বেড়াজালে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা। খোদ বাংলাদেশ সরকার যেখানে রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় বিনামূল্যে দিচ্ছে এবং তাদের ভরণ পোষণের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ, খাদ্য বিতরণ সহ মানবিক বিপর্যয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অথচ সেখানেই কিনা রোহিঙ্গাদের অর্থ ও ত্রান সামগ্রীতে ভাগ বসায় উখিয়ার স্থানীয় ইউ.পি সদস্য (মেম্বার) বখতিয়ার আহমেদ। সরেজমিনে তদন্ত করে এমনই অভিযোগের প্রমাণ মিলল কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে অবস্থিত কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। মানবিক প্রয়োজনে ঢাকা সহ সারাদেশ থেকে যখন রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রান/অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়, তখনই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ওই ইউনিয়নের মেম্বার বখতিয়ার ও তার পালিত সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা। এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য হচ্ছে এই যে, ২০১৬ সালের রোহিঙ্গাদের জন্য নগদ অর্থ নিয়ে ছুটে যান ইখতিয়ার হুসাইন এক সাংবাদিক। সেখানে তিনি কয়েকদিন অবস্থান করে ফিরে এসে জানান-

“মানুষ এখানে রোহিঙ্গাদেরকে ত্রান অথবা নগদ অর্থ দিতে চাইলে প্রথমেই উখিয়ার বখতিয়ার মেম্বারকে ভাগ দিতে হয়। তা না হলে তার পালিত সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা নির্যাতনের ভয় দেখায়। এমনকি রোহিঙ্গাদের আটকে রেখেও বখতিয়ার মেম্বারের লোকজন টাকা আদায় করে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেউ যদি রোহিঙ্গাদেরকে অর্থ প্রদান করেন, তাহলে বখতিয়ারের পালিত সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ঘরে ঘরে গিয়ে নির্দিষ্ট কমিশন নিয়ে আসে। যদি কেউ না দিতে চায় তবে সম্পূর্ণ অর্থই কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে রোহিঙ্গা জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করছে কুখ্যাত বখতিয়ার সিন্ডিকেট। আরও জানা যায়, প্রতি দশ হাজার টাকার জন্য তাকে কমিশন দিতে হয় আট হাজার টাকা, আর কোন পরিবার যদি পাঁচ হাজার টাকা সহযোগিতা পায় তাহলে সেই জন্য বখতিয়ার মেম্বারকে দিতে হবে চার হাজার টাকা! অর্থ্যাৎ রোহিঙ্গাদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে সম্পূর্ণ টাকাই হাতিয়ে নিচ্ছেন এই চাঁদাবাজ বখতিয়ার মেম্বার সহ পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোর জনপ্রতিনিধিরাও।

এরই সূত্র ধরে গনমাধ্যমে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর আরও ভয়ংকর রোহিঙ্গা বানিজ্যের সুনিশ্চিত তথ্য। এ যেন কেচো খুড়তেই সাপ! স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ওই নেতাদের মধ্যে কুতুপালং বস্তির নিয়ন্ত্রণ করেন রাজাপালং ইউপি সদস্য বখতিয়ার, বালুখালী বস্তি নিয়ন্ত্রণ করেন পালংখালী ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবছার, হাকিমপাড়া বস্তির নিয়ন্ত্রণ ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল আমিন, তাজনিমার খোলা বস্তির নিয়ন্ত্রণ করেন ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জয়নাল ও বাখঘোনা বস্তির নিয়ন্ত্রণ করেন পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মঞ্জুর। এরা সকলেই রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে জায়গা দিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল অর্থ বানিজ্য। এমনকি কোন রোহিঙ্গা যদি টাকা দিতে অপারগ হন, তবে তাদের সাথে থাকা স্বর্ণ, গয়না ও কানের দুল বিক্রি করে হলেও টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করানো হচ্ছে এসব যুদ্ধ বিধ্বস্ত মানুষদের।

আর যদি এভাবেই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে অর্থ বানিজ্য চলতে থাকে, তবে একাত্তরে ভারত আমাদের শরনার্থী হিসেবে জায়গা দেওয়ায় আমরা ভারতকে মিত্র দেশ বলে যে সম্মাননায় ভূষিত করেছি, আরাকান স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদেরকে মিত্র দেশ নয় বরং ‘বাঙালী জালিম’ উপাধি দিতে একটুও কুণ্ঠাবোধ করবে না। কারণ শরনার্থীদের জন্য ত্রানের টাকা খেয়েছে খোদ বাংলাদেশের সেসময়ের প্রভাবশালী নেতারাই।
তাই প্রশাসনের উচিত উক্ত বিষয়টি অতি দ্রুত তদন্ত করে জড়িত অমানুষগুলোকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করা। এটাই বাংলাদেশের গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও সাংবাদিক সমাজের সময়ের মুখ্য দাবি।






Related News

  • প্রতারনা ও অর্থ আত্মসাতের কারনে সৌমিত্র দেব বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন থেকে বহিষ্কার : ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলার সিদ্ধান্ত
  • বরুড়ায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে পল্লী বিদ্যুৎতের লাইন নির্মান
  • কুমিল্লার বরুড়ায় রাতের অাধারে শহীদ মিনার ভাঙ্গচুর
  • বুড়িচংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল ছাত্র নিহত 
  • ময়নামতিতে মাদকাসক্ত যুবকের অাত্নহত্যা
  • ফেনী জেলা জামায়াতের অামির নেতা মুতফী হান্নান গ্রেপ্তার
  • ছাগলনাইয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান ৩৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য উদ্ধার
  • দেশ ট্রাভেলসের একটি বাস তল্লাশী করে ৩০০০০পিস ইয়াবাসহ অাটক ৩
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *