,



সংবাদ শিরোনাম:
«» উত্তরখান থানার এস আই রাকিব ও হেলাল-উত্তরা পূর্বর এ,এস.আই মোস্তাফিজ এর বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির মোঃ লস্কর আলী পরিবারকে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা দাবী… «» আজও কেন কাদাঁয়…..এমপি প্রার্থী  জহিরুল ইসলাম মিন্টু «» আধুনিকতা কি আসলে নাজমীন মর্তুজা «» বরুড়ায় চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে আহত ১ «» কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভিজিডির ৪৯৮ বস্থা চাউলের কোন হদিস নেই «» শিবচর জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী মিন্টু আলোচনায় «» আজমপুরে দখল চার্দায় কোটি টাকা ব্যানিজে শাসক নেতা রুবেল কাহিনী… «» তুরাগে যুবলীগের জাতীয় শোক দিবসের আয়োজন «» আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৮ আসন আওয়ামীলীগ সরদার বেলায়েত হোসেন মুকুলকে এমপি প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় «» সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার মারা গেছেন

বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রস্তুত

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্ধারমানিক ও আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি এখন চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সম্প্রতি এর প্রথম পর্বের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই ফিল্ম সিটি প্রথম পর্বের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো চলচ্চিত্রকারদের। ১০ হাজার ৩৯৫ শতাংশ (৩১৫ বিঘা) জমির ওপর স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি।

ফিল্ম সিটিতে প্রবেশের জন্য দুটি গেট রয়েছে। একটি গেট গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকা দিয়ে, অন্যটি আশুলিয়ার কবিরপুর দিয়ে। আন্ধারমানিক এলাকা দিয়ে এ ফিল্ম সিটিতে ঢুকতেই হাতের বাঁ পাশে রয়েছে একটি বিশাল লেক এবং ডান পাশে একটি পুকুর। পুকুরঘাটটি বাঁধাই করা। এর দুই পাশে রয়েছে খেজুর গাছ। একটু সামনে গেলে হাতের ডান পাশে একটি টিনশেড ভবন। তার সামনে ফুলের বাগান। এখান থেকেই বামদিক দিয়ে সোজা রাস্তাটি চলে গেছে কবিরপুর এলাকায় মূল গেট পর্যন্ত। ওই রাস্তাটির বাঁ পাশে লেকসহ খেজুরবাগান ও একটি জঙ্গল। আর একটু সামনেই লেকের ওপর রং করা একটি লোহার ব্রিজ। এর ডান পাশে রয়েছে বন, টিনশেডের একটি বাড়ি ও একটি বিশাল ভবন। এ ফিল্ম সিটির পশ্চিম পাশে রয়েছে লাল মাটির টেক ও গজারিবন। এছাড়াও নানা উপকরণে সাজানো হয়েছে এ ফিল্ম সিটি।

বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আজম বললেন, ‘শুটিংয়ের জন্য ফিল্ম সিটি এখন প্রস্তুত।’ গত বছর প্রকল্পটির জন্য প্রথম বাজেট হিসেবে ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেয় সরকার। এই টাকায়ই তৈরি হয়েছে একটি পাওয়ার সাবস্টেশন, পানির পাম্প, ডরমিটরি, কৃত্রিম বাজার, গ্রাম্য বাড়ি, সুপ্রশস্ত লেক, বাংলো, শুটিং ইউনিট থাকার জন্য একাধিক রুম, প্রবেশের জন্য বড় দুটি গেট ও মূল ফটক। কেনা হয়েছে জেনারেটর ও স্পিডবোট। প্রকল্পে রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা, অসংখ্য খেজুর গাছ আর শালবন, শুটিং ফ্লোর, মেলা বা সেট ফেলার জন্য বড় মাঠ। পুরো ছবি কিংবা নাটকের শুটিং এখানেই শেষ করা যাবে বলেও জানান সাবেক এই প্রকল্প পরিচালক।

ফিল্ম সিটির ডরমিটরিটি চারতলা। চারপাশ থেকেই ক্যামেরা ধরা যাবে। ভিতরে বাসাবাড়ির মতো আছে আলাদা আলাদা ইউনিট। নাটক-সিনেমার অভিনেতাদের চরিত্রানুযায়ী বাসা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। শুটিংয়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বসানো হয়েছে পাওয়ার স্টেশন। খাবার পানির জন্য বসানো হয়েছে পাম্প। ডরমিটরির অদূরেই তৈরি করা হয়েছে একটি কৃত্রিম বাজার। টিনের ছাউনি আর চারপাশ খোলা বাজারটিতে কাঁচাবাজার, এমনকি মাছের বাজারের সেটও তৈরি করা যাবে। পাশেই টিনের ছাউনি দিয়ে দুটি গ্রামীণ আবহের বাড়ি। এখানে ফোক ছবির শুটিং করা যাবে। শহরের বাড়ির দৃশ্য ধারণের জন্য রয়েছে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। শুটিং ইউনিট থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে অনেক রুম। সেগুলোর কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কলেজ কিংবা স্কুল দেখানোর জন্য তৈরি হয়েছে একটি ভবন।

সাবেক প্রকল্প পরিচালক আজম জানান, ১০৫ একর জায়গার ওপর তৈরি বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটির প্রথম পর্বের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এটি এখন শুটিংয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইতিমধ্যে এখানে কয়েকটি ছবি ও নাটকের শুটিংও হয়েছে।

৩০০ কোটি টাকার এই প্রকেল্পর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে ২০২১ সালে। দ্বিতীয় পর্বের বাজেট পাওয়া গেলেই কাজ শুরু হবে। শুধু শুটিং নয়, পিকনিক স্পট হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি।

প্রথম ধাপে যে কাজ হয়েছে তাতে নাটক, সিনেমা, প্রামাণ্যচিত্র যারা বানাতেন চান সেখানে গিয়ে করতে পারবেন। রাত যাপন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে এফডিসির অনুমতি নিতে হবে।

ফিল্ম সিটি নির্মাণে ১৯৮১ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় এফডিসিকে ১০ হাজার ৩৯৫ শতাংশ (৩১৫ বিঘা) জমি বরাদ্দ দেয়। পরে এফডিসির পক্ষ থেকে জিয়া ফিল্ম সিটি নামে এর কাজ শুরু করা হয়। একপর্যায়ে নানা সমস্যা দেখিয়ে এ প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ‘জিয়া ফিল্ম সিটি’ নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি’ নামকরণ করে পুনরায় কাজ শুরু করে। এরপর আবারও এর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০২ সালের ২৮ জুন এফডিসির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিনেতা রাজীব ‘জিয়া চলচ্চিত্র নগরী’ নামে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সে সময় কিছু গাছ রোপণ ও একটি আবাসন ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে ‘জিয়া চলচ্চিত্রনগরী’ নাম পরিবর্তন করে এর নামকরণ করে ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি’। পরে আবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এর নামকরণ করে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি’। তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটির সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. আজম  জানান, ১০৫ একর (৩১৫ বিঘা) জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি। এ ফিল্ম সিটির মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতের সবার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হলো। তিনি আরও জানান, এ ফিল্ম সিটিতে রয়েছে গ্রাম ও শহরের উভয় রকম পরিবেশ। একজন নির্মাতা এখানেই খুঁজে পাবেন একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণে দৃশ্যায়নের সব সুযোগ-সুবিধা

====  আলাউদ্দীন মাজিদ =

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Skip to toolbar