,



সংবাদ শিরোনাম:
«» কুমারখালীতে স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে আহত,হাসপাতালে ভর্তি, ছাত্রদের মধ্য আতংক «» শিবচরে জাতীয় পার্টির মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা এমপি প্রার্থী মিন্টু এর নেতৃত্বে-বিএনপি টেনশনে.. «» ঢাকা-১৮আসনে জাতীয় পাটির নির্বাচনী মতবিনিময় ও প্রতিবাদ সভা উওরায় «» জাতীয় ঐক্যে’র স্টিয়ারিং কমিটি হয়েছে «» নাটোর বাগাতিপাড়ায় জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত «» বাগাতিপাড়ায় দিনব্যাপি ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় «» ইউএনও নাসরিন বানুর যোগদানের বর্ষপূর্তি বাগাতিপাড়ায় জনবান্ধব উপজেলা প্রশাসন বিনির্মাণে ভূমিকা «» দেশব্যাপী সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে… «» জাতীয় পার্টির আজম খানের গনসংযোগে হামলা আহত ২৫ কালিগন্জ… «» ঢাকা ক্লাবে জমজমাট তারার মেলা ছবির মহরত উপলক্ষে তথ্য-সংস্কৃতি-তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা-১৮ আ’লীগে মনোনয়ন নিয়ে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন চ্যালেঞ্জে

ঢাকা-১৮ (উত্তরা-খিলক্ষেত) আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে একাধিক প্রার্থী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন।

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি নাজমা আক্তার, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দক্ষিণখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম তোফাজ্জল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এসএম মাহবুব আলম এবং খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিন।

বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাহারা খাতুন আগামীবার প্রার্থী হতে না পারলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি ডা. দীপু মনিকে এই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। উত্তরার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি এই আসনের পরিচিত মুখ। এ ছাড়াও মহাজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল।

রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম উত্তরা, তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান ভাটারা থানার (আংশিক) এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৮ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি ইউনিয়নভুক্ত এলাকা এই আসনে পড়েছে। সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০০৮ সালে নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বিএনপির আজিজুল বারী হেলালকে হারিয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের বিএনপিবিহীন নির্বাচনে বিএনএফ প্রার্থী আতিকুর রহমান নাজিমকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় দফায় এমপি হন তিনি। মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সাহারা খাতুন। পরে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী করা হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি প্রবীণ এই রাজনীতিকের।

সাহারা খাতুন আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন চাইছেন। টানা তিন দফায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতা দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক, সহযোগী সংগঠন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। গত বছর আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদকে একীভূত করে ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ’ প্রতিষ্ঠাকালে তাকে নতুন এই সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

সাহারা সমর্থক নেতাকর্মীদের দাবি, গত দুই মেয়াদের এমপি থাকতে সাহারা খাতুন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে নেতাকর্মীদের পাশেও থেকেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ায় তাকেই টানা তৃতীয়বারের মতো দলীয় প্রার্থী করা হবে- এমনটাও প্রত্যাশা তাদের।

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নাজমা আক্তার স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুব মহিলা লীগের এই প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক টানা দুই দফায় আওয়ামী লীগের অন্যতম এই সহযোগী সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় কারাবন্দি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন তিনি। নবম সংসদের সংরক্ষিত এই মহিলা এমপি নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এবার সরাসরি নির্বাচন করার প্রত্যাশা করছেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাজিম উদ্দিনও এখানে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের উত্তরা থানার নির্বাহী সদস্য, উত্তরখান ইউনিয়ন সভাপতি এবং অবিভক্ত ঢাকা মহানগর কমিটির বন ও পরিবেশ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্তমান এই সহসভাপতি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়ে না পেলেও এবার পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।

হাবিব হাসান দীর্ঘদিন বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্তমান এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদের স্বৈরশাসন ও চারদলীয় জোট সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় কারাবন্দি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তি সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। এ জন্য বারবার মামলা-হামলা ও কারানির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা এসএম তোফাজ্জল হোসেন ২০১০ সাল থেকে দক্ষিণখান ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের বন ও পরিবেশ সম্পাদক এবং বৃহত্তর উত্তরা থানার সাবেক এই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল এলাকায় বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

এসএম মাহবুব আলম আশির দশকে রাজনীতি শুরু করে বিভিন্ন সময় দলের নারিন্দা ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক, দক্ষিণখান ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বৃহত্তর উত্তরা থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন।

আসলাম উদ্দিন ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু করে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ও থানার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দলের খিলক্ষেত থানার এই সাধারণ সম্পাদক এলাকায় বর্তমান এমপি সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত।

বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন (সাবেক ঢাকা-৫) থেকে এমপি এবং ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জাপার এই ভাইস চেয়ারম্যান।

সাহারা খাতুন সমকালকে বলেন, গত ৯ বছরে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। জনগণ ও নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে রয়েছেন। দল তাকে আবারও এই আসনে মনোনয়ন দেবে এবং জনগণের সমর্থনে আবারও জিতে আসতে পারবেন বলেই পুরোপুরি আশাবাদী তিনি।

নাজমা আক্তার বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এলাকার নেতাকর্মী ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। দল ক্ষমতায় ও নিজে সংরক্ষিত মহিলা এমপি থাকতে কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হননি। দলীয় মনোনয়ন পেলে সবার সুসংগঠিত প্রচেষ্টায় তিনি জয়ী হতে পারবেন বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

নাজিম উদ্দিন বলেন, ৪০ বছর ধরে এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে রাজনীতি ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি। তৃণমূল জরিপ ও জনপ্রিয়তার বিচারে তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন এবং জনগণের সমর্থনে জিতেও আসতে পারবেন বলে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী তিনি।

হাবিব হাসান বলেন, জনগণের কল্যাণ ও সেবা করার প্রত্যাশা থেকেই দলীয় মনোনয়ন চাইছেন তিনি। নেত্রী (শেখ হাসিনা) মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন। না দিলেও দল যাকে প্রার্থী করবে তার পক্ষেই কাজ করবেন।

এসএম তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এলাকার নেতাকর্মী ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে দলের মনোনয়ন চাইছেন তিনি। মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করার প্রস্তুতিও রয়েছে তার।

এসএম মাহবুব আলম বলেন, নেত্রী উপযুক্ত মনে করলে তাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি মনে করেন। না দিলেও নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে যাবেন না তিনি।

আসলাম উদ্দিন বলেন, তারা চাইছেন সাহারা খাতুনই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। কিন্তু কোনো কারণে সাহারা খাতুন নির্বাচন না করলে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।

বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল বলেন, মানুষ এখন কিছুটা পরিবর্তন চাইছে। তিনি এই আসনে প্রার্থী হলে মানুষ পরিবর্তনের জন্য তার পক্ষেই রায় দেবে বলেই তার বিশ্বাস।

36,613 total views, 1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Skip to toolbar