,



সংবাদ শিরোনাম:
«» প্রচারণায় তুঙ্গে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর ধানের শীষে ভোট ও দোয়া চেয়ে ছুটছেন… «» আরেকবার ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা «» অনলাইন নিউজ পোর্টাল ৫৪টি বন্ধ-খুলে দিতে বিক্ষোভ সমাবেশে আল্টিমেটাম «» নিউজ পোর্টাল ৫৮ ওয়েবসাইট খুলে দেওয়া হয়েছে: বিটিআরসি «» মাদারীপুর ১ (শিবচর বিএনপির সবাই দলীয় ভেদাভেদ ভুলে পক্ষে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলুর «» নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পেল মাদারীপুর-১ আসনের জাতীয় পাটির জহিরুল ইসলাম মিন্টু «» জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে“সংবিধান সংরক্ষণ দিবসের আলোচনা সভা আগামীকাল «» অচিরেই সম্প্রচারে আসছে ‘ হ্যাপিনেস টেলিভিশন… «» নির্বাচনে প্রচারণা ও জনসংযোগে ৩০০ আসনেই ছাত্রলীগ থাকবে: ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন «» ঢাকা-১৮আসনের জাতীয় পার্টি অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ঘিরে নৌকায় ভোট প্রচারে মাঠে

রাজধানী ঢাকা শ্যামপুর থেকে মাওয়া ফরিদপুর ভাঙ্গা ৫৫ কিলোমিটার সড়ক রূপ নিচ্ছে এক্সপ্রেসওয়েতে

                                                              জুনে খুলছে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে
নিজামুল হক বিপুল, ( ঢাকা-মাওয়া সড়ক ঘুরে এসে ) : রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে ধোলাইপাড় নেমে পোস্তগোলার দিকে এগোলেই চোখ আটকে যাবে বিশাল কর্মযজ্ঞে। ধোলাইপাড় থেকে একেবারে মাওয়া পদ্মা সেতু লিঙ্ক পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে অবিরাম কাজ চলছে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রের সাহায্যে। ব্যস্ত শত শত শ্রমিকের হাত। কোথাও চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ, কোথাও বা রেলওয়ে ওভারপাস, কোথাও বা নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ-কালভার্ট আবার কোথাও চলছে দুই লেনের সরু রাস্তাকে আট লেনে পরিণত করার কাজ। সরেজমিন উন্নয়নকাজের এমন চিত্র দেখা গেছে ধোলাইপাড় থেকে মাওয়া পর্যন্ত। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজে সাময়িক দুর্ভোগ হলেও উন্নত এক সড়কের আশায় সেই দুর্ভোগ মেনে নিয়েছেন এ পথে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।

শ্যামপুর থেকে মাওয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সড়ক রূপ নিচ্ছে এক্সপ্রেসওয়েতে; যার মধ্যে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত হচ্ছে ৩৫ কিলোমিটার। আর জাজিরা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। এটি হবে দেশের প্রথম এক্সপ্রেস হাইওয়ে। যেখানে মূল সড়কে থাকবে চারটি লেন। সঙ্গে সড়কের দুই পাশে থাকবে সাড়ে ৫ মিটার করে (একেক পাশে দুই লেন করে) দুটি সার্ভিস লেন। আর নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর এ সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে ঢাকা থেকে মাত্র ৪২ মিনিটেই পৌঁছা যাবে প্রমত্তা পদ্মার ওপারে ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের সামগ্রিক কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যেই এ প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার কথা। এর পরপরই এটি খুলে দেওয়া হবে যান চলাচলের জন্য। আর এ রাস্তা ব্যবহার করতে টোল দিতে হবে সব ধরনের যানবাহনকে। গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নেমে যাত্রাবাড়ী-ধোলাইপাড়ে চলছে ইন্টারসেকশন নির্মাণের কাজ। এখান থেকেই শুরু বিশাল এ প্রকল্পের কাজ। পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা সেতু পার হওয়ার পর যত এগোনো যায় ততই চোখে পড়ে বিদ্যমান সড়কের দুই পাশে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ। ইতিমধ্যে পদ্মার ওই পারে শরীয়তপুরের পাঁচ্চর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত অংশের ভাঙ্গা এলাকার কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ১৩ অক্টোবর ওই অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা। ওইদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়কটি উদ্বোধন করবেন। অন্যদিকে রাজধানীর ধোলাইপাড় থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়কের অনেক স্থানে বিভিন্ন ভাগে রাস্তার কাজ প্রায় শেষ। কোথাও চলছে রোলিংয়ের কাজ, কোথাও বা ম্যাকারডম ফেলা হয়েছে। আবার কোথাও কার্পেটিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে রাস্তার জন্য ট্রাকে ট্রাকে মাটি ফেলা হচ্ছে। পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু পার হয়ে কিছুদূর এগোলেই দেখা মিলবে আবদুল্লাহপুর বাজারের। এখানে নির্মাণ হচ্ছে ফ্লাইওভার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১৩ অক্টোবরের আগেই এ ফ্লাইওভারের কাজ তারা শেষ করতে চাচ্ছেন। এজন্য দিনে রাতে সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। ইতিমধ্যে ফ্লাইওভারের গার্ডার বসানোর কাজ প্রায় শেষ। তারপর দেওয়া হবে ঢালাই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৮৮ হেক্টর। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা-খুলনা (এন-৮) মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার ছয় লেনের এ এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়েতে কোনো ট্রাফিক ক্রসিং থাকবে না। এ এক্সপ্রেসওয়ের মাঝবরাবর থাকবে ৫ মিটার প্রস্থের মিডিয়ান। যেখানে ভবিষ্যতে মেট্রোরেল নির্মাণ করা সম্ভব হবে। সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ হচ্ছে দুটি প্যাকেজে। প্রথম প্যাকেজে যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে শরীয়তপুরের পাঁচ্চর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। নির্মাণাধীন এ এক্সপ্রেসওয়েতে মোট সেতুর সংখ্যা হচ্ছে ৩১টি। এগুলোর মধ্যে পিসি গার্ডারের সেতু নির্মাণ হচ্ছে ২০টি ও আরসিসির ১১টি। এ ছাড়া ধলেশ্বরী-১ ও ধলেশ্বরী-২ এবং আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর তিনটি বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক রাতদিন এসব সেতু, ওভারপাস, ফ্লাইওভার ও সড়ক নির্মাণকাজে ব্যস্ত। এর বাইরে এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ হচ্ছে আবদুল্লাহপুর, হাঁসারা, শ্রীনগর, কদমতলী, পুলিয়া বাজার ও সদরপুর ফ্লাইওভার। নির্মাণ হচ্ছে ৪৫টি কালভার্টও। এ ছাড়া জুরাইন, কুচিয়ামোড়া, শ্রীনগর ও আতাদিতে ৪টি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণেরও কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। গ্রেট সেপারেটর হিসেবে ১৫টি আন্ডারপাস ও ৩টি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হবে। এগুলো হবে যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ও ভাঙ্গায়। এক্সপ্রেসওয়ের দুই প্রান্তে ২টি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে। এ এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশেষ করে ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, খুলনাসহ সংলগ্ন সব জেলার সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে হবে এশিয়ান হাইওয়ের করিডর-১-এর অংশ। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকায় আট লেনের এ এক্সপ্রেসওয়েটি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন-এসডব্লিউও (পশ্চিম)। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য আরও ৬০০ কোটি টাকা যোগ হয়েছে এ প্রকল্পে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা

160 total views, 3 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Skip to toolbar