,



সংবাদ শিরোনাম:
«» অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এম,পি ও কাউন্সিলর আলহাজ্ব আফছার উদ্দিন খানের মূলশক্তি জনগন «» এক দশক ধরে বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে – প্রতিমন্ত্রী পলক «» নাটোরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অটোরিক্সা চালকের মৃতদেহ উদ্ধার «» সিংড়ায় যুবদলের বিক্ষোভে পুলিশের বাধা «» উত্তরা পশ্চিম থানা জাতীয় পার্টির সম্মেলন «» বাগাতিপাড়ায় বাউয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নবীনবরণ «» নাটোরে স্কুল ব্যাংকিং কন্ফারেন্স অনুষ্ঠিত «» লালপুরে দুর্যোগ প্রশোমন দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা «» শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যা চেষ্টা চালায় «» টঙ্গী থানা জাতীয় পার্টি এডঃ মামুনকে এম.পি প্রার্থী হিসেবে কর্মী সভায় দাবী

জাতীয় ঐক্যে’র স্টিয়ারিং কমিটি হয়েছে

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার জন্য আলোচনা করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে।

গণফোরাম নেতা কামাল হোসেনের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ এবং দুই দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া যুক্তফ্রন্ট এই কমিটি গঠন করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে শীর্ষনেতাদের যৌথসভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা হলেন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব আবদুল মান্নান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্যসচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন এবং নাগরিক ঐক্যের জাহিদুল ইসলাম।

এই কমিটি যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়নসহ সাংগঠনিক বিষয়াদি দেখভাল করবে।

বৈঠকে বিএনপির সঙ্গে কিছু ‘মৌলিক’ বিষয়ে ঐক্যের উদ্যোক্তাদের বোঝাপড়া চূড়ান্ত করা এবং আগামী দিনের কর্মসূচিতে তাদের কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, এ ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে আবার বৈঠকে বসার। এজন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে চাইছেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন। তিনি অবশ্য বরাবর এই ধরনের আহ্বান জানান। তবে এই আলোচনা এবার গুরুত্ব পেয়েছে বিএনপির কারণে।

বিএনপি তার ২০ দলের বাইরে সরকাবিরোধী ঐক্য জোরাল করতে চায়। আর এই চেষ্টার অংশ হিসেবে গণফোরাম ও যু্ক্তফ্রন্টের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী তারা। আর এই মোর্চাকে জাতীয় ঐক্য বলছে তারা।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বিএনপির যোগদান এই ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর আগেই গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্ট একসঙ্গে কাজ করবে বলে ঘোষণা এসেছে।

তবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে কিছু প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি। প্রথমত যুক্তফ্রন্ট তিনশ আসনের মধ্যে ১৫০টিতে ছাড় ছাড়াও দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্ব চেয়েছে। আবার এই ঐক্য হলে নেতা কে হবেন, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। যদিও একটি প্রভাবশালী দৈনিক দাবি করেছে, ড. কামাল হোসেনকে বিএনপি নেতা হিসেবে মানতে প্রস্তুত।

এর মধ্যে স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের বৈঠকে বিএনপি ছাড়াও কিছু বাম-প্রগতিশীল ঘরানার দলকে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঐক্য গড়ে তোলার মধ্যস্ততাকারী জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বৃহত্তর ঐক্যের আগামী দিনের কর্মপন্থা ঠিক করার জন্য আজ ডা. কামাল হোসেনের চেম্বারে সকলেই বসেছিলাম। যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া যৌথভাবে ইতিমধ্যে পাঁচ দফা দাবি এবং নয় দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও বেশকিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরা হয়েছে। বেশিরভাগ ইস্যুতেই তিন পক্ষ একমত।’

‘যুক্তফ্রন্ট আর ঐক্যপ্রক্রিয়ার কর্মপন্থা ঠিক করতে আজ একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠিত হয়েছে। দাবি দাওয়ার বিষয়ে বেশির ভাগ ইস্যুতে তিন পক্ষ একমত। তারপরও আরও আলোচনা হবে। তিন পক্ষের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে একটি অভিন্ন দাবিদাওয়া দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা হবে।’

‘একক নয় নেতৃত্ব হবে যৌথ’

জাতীয় ঐক্য হলে নেতৃত্বে কে থাকবেন- এ বিষয়ে একটি ধারণার কথা বলেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বলেন, একক নয়, যৌথ নেতৃত্বে চলবে এই ঐক্য।

বলেন, ‘আজকের বৈঠকে নেতৃত্বের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে যৌথভাবে দুই জোটের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হলে বিএনপির একজন প্রতিনিধি থাকবে। সেক্ষেত্রে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিনজন মিলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের নেতৃত্ব দেবেন।’

তবে এই ঐক্যে জামায়াতের ভূমিকা কী হবে, সেটি স্পষ্ট হয়নি এখনও। যুক্তফ্রন্ট থেকে এর আগে জানানো হয়েছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বাধীনতাবিরোধীর সঙ্গে তারা ঐক্য গড়বে না। অথচ বিএনপি জোটবদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সঙ্গে। তার এই সম্পর্ক ছাড়ার কোনো আভাসও দেয়নি দলটি।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপির জামায়াত ছাড়া না ছাড়া নিয়ে এই ঐক্যে কোন প্রভাব ফেলবে না। যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার দাবি মেনে নিয়ে জামায়াতকে বাইরে রেখেই জোট হবে। এক্ষেত্রে জায়াতেরও আপত্তি নেই। বিএনপিরও আপত্তি নেই।’

অবশ্য স্বাধীনতাবিরোধীর সঙ্গে ঐক্য নয় বলে যুক্তফ্রন্টের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এরই মধ্যে। কারণ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদের।

আবার যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্প ধারার মহাসচিব আবদুল মান্নানও স্বাধীনতাবিরোধী। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং যুদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের পর ভারতে বন্দীও হন তিনি। পরে সেখান থেকে ফিরে যান পাকিস্তানে। আর ১৯৭৩ সালে অবসর নেন সে দেশের সেনাবাহিনী থেকে।

বুধবার পেশাজীবী সমাবেশ

বৈঠকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভার কর্মসূচিও চূড়ান্ত হয়। ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকারের অপরিহার্যতা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় হবে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিটিউশন মিলনায়তনে। এতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে আগামী পহেলা অক্টোবর ময়মনসিংহে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেয়া আছে।

কামাল হোসেন ছাড়াও এই বৈঠকে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাহিদুর রহমান, বিকল্পধারা বাংলাদেশের আব্দুল মান্নান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, প্রমুখ অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Skip to toolbar