,


সংবাদ শিরোনাম:
«» আসুন প্রকৃত বাঙ্গালী হই ! সাংবাদিক রোকন «» নেত্রকোনায় ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত। «» মুন্সীগঞ্জে লবনের দাম বৃদ্ধির গুজবে হাট বাজারে লবন কেনার ধুম । দোকান গুলোতে লবন শূন্য ৪৫ জন দোকানিকে কে জরিমানা «» বি পি এল কে কোন দলে, জানলে অবাক হবেন। «» স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বেড়ে ওঠা সম্ভাবণাময় ক্ষুদে কবি মুহাম্মদ সবুজ হোসেন «» পেঁয়াজের পর এবার চালের বাজারে আগুন «» মুরাদনগরের ‘বাঙ্গরাবাজার প্রেসক্লাব’ গঠিত জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল সভাপতি, আবুল কালাম আজাদ সাধারণ সম্পাদক «» বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানাধীন মাদ্রাসাঘাট এলাকা হতে ১৭৭ পিচ ইয়াবাসহ ০১ জন ইয়াবা ব্যবাসয়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। «» উত্তরা ১২ নং সেক্টর বালুর মাঠ বস্তিতে মাদক-দখল বাণিজ্যে কালাম অপ্রতিরোধ্য! «» জাককানইবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ

জাতীয় পার্টির ৭৫ কমিটির ৫১টি মেয়াদোত্তীর্ণ

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটিগুলোর বেহাল অবস্থা। আগামী ডিসেম্বর পার্টির সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, পার্টির ৭৫ কমিটির মধ্যে ৫১ কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ এখনো। এমন জেলা রয়েছে যেখানে গত একযুগেও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। পার্টির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা শীর্ষ নেতাদের জেলাতেই সম্মেলন হয় না বছরের পর বছর। আবার এমনও অনেক জেলা রয়েছে যেখানে সম্মেলন হয়েছে কয়েক বছর আগে কিন্তু কমিটি গঠন করা যায়নি। তবে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অবর্তমানে তার ছোট ভাই জি এম কাদের দলকে সংগঠিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানতে চাইলে পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, আমরা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করে দিয়েছি তারা এ বিষয়গুলো দেখছেন। রংপুর ও ময়মনসিংহ কমিটি ছাড়া অন্যদের কাজের অগ্রগতি বেশ ভালো। তিনি বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সবাইকে কমিটিগুলো আপডেট করতে বলা হয়েছে। যে সব জেলায় সম্মেলন করা সম্ভব হবে না, সেসব জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগের অবস্থা ভালো বলা যায় না। পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের ওই নিজ বিভাগের এক মহানগর ও আট জেলা কমিটির মধ্যে পাঁচটির মেয়াদ শেষ হলেও কমিটি গঠন করা যায়নি। খোঁদ চেয়ারম্যানের নির্বাচনী আসন লালমনিরহাট জেলার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৩ মাস আগে। প্রায় কাছাকাছি সময়ে গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রায় ১৬ মাস আগে রংপুর মহানগর কমিটির সম্মেলন হয়েছে। এখনো কমিটি জমা পড়েনি দফতরে। ঢাকা বিভাগের চার মহানগর ও ১২ জেলা কমিটির মধ্যে ১১ কমিটির মেয়াদ শেষ। বলা হয় রাজধানীতে যে দলের ভিত যত মজবুত সেই পার্টি রাজনীতির ক্ষেত্রে তত বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। সেই ঢাকা বিভাগে জাপার সাংগঠনিক অবস্থা অনেকদিন ধরেই নড়বড়ে। সবার আগে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুল হক চুন্নুর জেলা কিশোরগঞ্জের। কিশোরগঞ্জের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে। ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও কাউন্সিল করা হয়নি। সেখানে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জেলা জাপার কার্যক্রম। ২০১২ সালের আগস্টে মেয়াদ শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির। একই সময়ে শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির মেয়াদও। জাতীয় পার্টির অনেক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন এই জেলায়। জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি ও সেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি বলেন, আগামী ৭ ডিসেম্বর স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সম্মেলন করতে যাচ্ছি। এরপরই দ্রুত সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন করা হবে। গাজীপুরের অবস্থাও নাজুক। এই জেলার আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। বিভাগ ভিত্তিক বলতে গেলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সিলেট বিভাগের। রংপুরের পরে সিলেটকে বলা হয় জাতীয় পার্টির জন্য দ্বিতীয় উর্বর ক্ষেত্র। এখানে জাতীয় পার্টির অনেক রিজার্ভ ভোট রয়েছে। এই বিভাগের প্রার্থীরা প্রত্যেক নির্বাচনেই ভালো ফল পেয়েছেন। এই বিভাগের মহানগর ও চার জেলা কমিটির সবকটির মেয়াদ শেষ বলা যায়। ২০১৭ সালের ৯০ দিনের সময় দিয়ে গঠন করা হয়েছিল সিলেট জেলার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। সেখানেই আটকে আছে শাহজালালের পুণ্যভূমি সিলেট জেলা জাপার কার্যক্রম। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন হয়েছে ২০১৮ সালের আগস্টে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কমিটি গঠন করা যায়নি। ঝুলে রয়েছে কমিটি গঠনের কার্যক্রম। কমিটির মতো জাতীয় পার্টির কার্যক্রমও নেতা কেন্দ্রিক আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান সংসদীয় দলের নেতা রওশন এরশাদের নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহ বিভাগেও জাপার অবস্থা ভালো না। এই বিভাগের শুধু নেত্রকোনা জেলা কমিটির মেয়াদ রয়েছে। অন্য তিন জেলার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সারা দেশে যে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে এই বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারছেন নেতা-কর্মীরা। রাজশাহী বিভাগের আট জেলা কমিটির মধ্যে ছয় জেলার মেয়াদ শেষ। ২০১৬ সালে বগুড়া জেলা কমিটির সম্মেলন হয়েছে তবে এখনো কমিটি গঠন হয়নি। কেন্দ্রেও কমিটি জমা হয়নি। মুখে মুখে যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি সেই দায়িত্বে পরিচয় দিচ্ছেন। কিন্তু কেউ দেখেনি কমিটির কাগজ। এরশাদ বেঁচে থাকা অবস্থায় এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ উঠেছিল কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও নাটোর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। খুলনা বিভাগের মহানগর ও চার জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও এক মহানগর কমিটির মধ্যে শুধু বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা কমিটির মেয়াদ রয়েছে। ২০১৭ সালেই গত হয়েছে অনেক কমিটির মেয়াদ। চট্টগ্রাম বিভাগের জাপার অবস্থাও খারাপ। এই বিভাগের মধ্যে ১১ জেলার মধ্যে আট জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ। কুমিল্লা মহানগর কমিটি গঠনই করা হয়নি। পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির মেয়াদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।

Developed By H.m Farhad