,


সংবাদ শিরোনাম:

টঙ্গীতে ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীদের ট্রাক ভাড়াও উঠছে না!

                                     চোখের পানিতে ভাসছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা-চামড়া বিক্রি করে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

চামড়া ব্যবসায়ী লালু মিয়া সাত হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া দিয়ে হবিগঞ্জ থেকে টঙ্গীর আড়তে গত রবিবার বিক্রির জন্য চামড়া নিয়ে আসেন ১৫২টি। ক্রেতা না থাকায় তিনি মাত্র সাড়ে ৫ হাজার টাকায় ওই চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন। তাঁর ট্রাক ভাড়াসহ প্রতি চামড়ার ক্রয় মূল্য ৩৭৫ টাকা হলেও বিক্রি মূল্য পড়েছে ৩৬ টাকা ১৮ পয়সা। এতে প্রতি চামড়ায় তাঁকে লোকসান গুনতে হয়েছে ৩৩৮ টাকা ৮২ পয়সা করে।

গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে টঙ্গী চামড়ার বাজারে স্তরে স্তরে রাখা চামড়ার স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে গামছা দিয়ে চোখ মুছছিলেন ব্যবসায়ী লালু মিয়া। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কালিকাপুর বাজারে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, টেলিভিশনের খবরে জানতে পারেন, ঢাকায় হাজার-বারো শ টাকায় চামড়া বিক্রি হচ্ছে। বুকভরা আশা নিয়ে ট্রাক ভাড়া করে ঈদের সময় কেনা ১৫২টি চামড়া নিয়ে শনিবার রাতে তিনি টঙ্গী বাজারে আসেন। এখানে এসে চামড়ার দাম শুনে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ। হতাশ হয়ে চামড়া ফেরত নিয়ে যেতে চাইলে হাটের ইজারাদারের লোকজন গাড়ি আটকে দেন। তাঁকে জানানো হয়, বিক্রি হলে চামড়া প্রতি ৬০ টাকা, আর ফেরত নিলে ২৫ টাকা করে ইজারাদারদের দিতে হবে। বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল চামড়া বিক্রির লাভের টাকায় ট্রাক ভাড়া দেবেন। লোকসান হওয়ায় বিকেলে টাকা এনে ভাড়া পরিশোধ করেছেন। সঙ্গে টাকা না থাকায় কিছু খাওয়া হয়নি।

টঙ্গীর চামড়া বাজার ঘুরে পানির দামে চামড়া বিক্রি হতে দেখা গেছে। ২০ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা করেন ঢাকার উত্তরার বাউনিয়ার মীর মোহাম্মদ। ৩০০ চামড়া নিয়ে হাটে এসেছিলেন। লবণ দেওয়াসহ চামড়াপ্রতি খরচ পড়েছে ২৮০ টাকা। বিক্রি করেছেন ১৪০ টাকা করে। লোকসান গেছে অর্ধেক টাকা।

একইভাবে বাউনিয়া থেকে ২০টি বড় গরুর চামড়া বাজারে বিক্রি করতে আসেন প্রদীপ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘আমিও এখানে চামড়া বিক্রি করতে এসে বিপদে পড়েছি। না পারছি ফেরত নিতে, না পারছি বিক্রি করতে।’

টঙ্গী বাজারের পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ জানান, চামড়ার সাইজ অনুযায়ী তাঁরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করছেন। তবে ছোট চামড়ার দাম কম।

বাজারের ইজারাদারের প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন ও তারেক হোসেন বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের অবস্থা দেখলে নিজেদেরও কষ্ট হয়। আগে বাজার ছিল রমরমা। দিনমান বেচাবিক্রি ছিল। এখন বাজারে ক্রেতাই নেই। ক্রেতার অভাবে বাজার পড়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।

Developed By H.m Farhad

Skip to toolbar