,


সংবাদ শিরোনাম:
«» শেখ হাসিনার সামাজিক উন্নয়ন নিরাপত্তা বেষ্টনী -সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সহায়তায় «» নূরুল কোরআন মাদ্রাসা,আরিচপুর ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল «» জাতীয় পার্টি নৌকার ভোট প্রচারে মাঠে সাহারা খাতুরেন সাথে আলোচনায় «» ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী,পথে পথে নির্বাচনী পথসভায় শেখ হাসিনা «» ঢাকা-১৮ আসনে ঝুলছে সাহারা খাতুনের পোস্টার,ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী স্বপন শাহ কবির মাজার জিয়ারতে… «» শেখ হাসিনা কাঙালিনী সুফিয়ার পাশে উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ… «» মাদারীপুর এমপি নাছিমের মায়ের দোয়া নিলেন বিএনপির প্রার্থী খোকন নির্বাচনী প্রচারণায় «» প্রচারণায় তুঙ্গে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর ধানের শীষে ভোট ও দোয়া চেয়ে ছুটছেন… «» আরেকবার ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা «» অনলাইন নিউজ পোর্টাল ৫৪টি বন্ধ-খুলে দিতে বিক্ষোভ সমাবেশে আল্টিমেটাম

শিবির নেতার মা আন্দোলনের সময় মা সেজে খিচুরী খাইয়ে দিলো…

একজন শিক্ষার্থীর আবেগের বহিঃপ্রকাশ…

‘বাংলার জাহানারা ইমাম’ নামে পরিচিতি পাওয়া ছবির মহিলাটি আমার ও আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। সেদিন সকালে বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেও আন্দোলন শুধুমাত্র ছাত্রদের ছিলো। সকালে না খেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপছিলাম, সারাদিন না খেয়ে ক্ষুধায় খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। বিকালের শেষ দিকে রাস্তা নষ্ট হওয়া প্ল্যাকার্ড ও খাবারের প্যাকেটে অপরিচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিলো। সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনা পরিষ্কারের ট্রলি নিয়ে আমি, সাগর আর জাহ্নবী রাস্তাগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করেছিলাম। সিটি কলেজের সামনে থেকে আবর্জনা তুলতে তুলতে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে গেলে দেখলাম কলেজ গেটের বিপরীতে একজন ভদ্র মহিলা বাসা থেকে রান্না করে নিয়ে আসা খিচুরী মেখে মেখে আন্দোলনকারী ছাত্রদের মুখে তুলে খাওয়াচ্ছেন। ওদিকের আবর্জনা পরিষ্কার করতে গেলে ডেকে বলে, “আসো বাবা, মায়ের হাতের রান্না খেয়ে যাও। মায়ের দোয়া তোমাদের সাথেই আছে।” কোনো কিছু চিন্তা না করে উনার কাছে গিয়ে তার হাতে খিচুরী খেয়েছিলাম।

 

চোখ ভরে পানি আসছিলো! কারণ এ শহরে অপরিচিত কারও ভালোবাসা কখনও পাই নাই। আমরা যারা পরিবার ছেড়ে, মাকে ছেড়ে হোস্টেলে থাকি তারা মায়ের অভাবটা খুব ভালো করে বুঝি। কেউ যখন মায়ের মতো ভালোবাসতে চায় তখন সেটাকে এড়িয়ে চলতে পারি না। তাই তার ডাকেও সাড়া দিয়েছিলাম। ১ মুঠো খিচুরী খাওয়ার পর উনার ছেলে গ্লাসে করে পানি দিয়েছিলো। খুব তৃপ্তি পেয়েছিলাম ১ মুঠো খিচুরী আর ১ গ্লাস পানি খেয়েই। ভাবতেও পারি নাই যে, তিনি কে!

বাসায় এসে ফেসবুকে দেখলাম কেউ ভিডিও করে আপলোড দিয়েছে। আর তা রীতিমতো ভাইরাল! বুকে পতাকা বাধা থাকায় আলাদা করে সে ভিডিওতে আমাকে বেশ ভালো করে দেখা যাচ্ছিলো। খুব ভালো লাগছিলো। তাকে ফেসবুকবাসী ‘বাংলার জাহানারা ইমাম’ বানালেও আপত্তি হয় নাই মন থেকে। কিন্তু যখন ফেসবুক ও পত্রিকার মাধ্যমে জানলাম যে, তিনি ডেমরার শিবির নেতার মা আর তার ছেলে এখনও জেলে আছে তখন ঘৃণায় নিজের গায়ে থুথু দিতে ইচ্ছা করছিলো! আমাদের সরলতার সুযোগ নিতে তিনি মা সেজে আমাদের মধ্যে ঢুকলো! কি প্রয়োজন ছিলো এই নাটকের?

জীবনে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি শিবিরকেই। শিবিরকে ঘৃণা করাও খুব ছোটোবেলায় মায়ের কাছেই শিখেছি। অথচ একজন শিবির নেতার মা আন্দোলনের সময় মা সেজে খিচুরী খাইয়ে দিলো! জানার পর থেকে নিজেকেই নিজের কাছে অপরাধী মনে হচ্ছে৷ কখনও কোনো শিবির কর্মীর হাত ধরে হ্যান্ডশেকও করি নাই। অথচ শিবির নেতার মায়ের হাতে খাবার খেতে হয়েছে। এরকম প্রতরণার স্বার্থকতা কি? তার প্রতি অনেক সম্মান তৈরি হয়েছিলো৷ কিন্তু তিনি তার যোগ্য নন। তিনি আমাদের সাথে প্রতারণা করে মা সেজেছিলো। আজ নিজেকে অপরাধী ও তাকে প্রতারক মনে হচ্ছে। এভাবে অনেকে অনেক অভিনয় করে ছাত্রদের আন্দোলনকে সন্ত্রাসের আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। আল্লাহর কাছে এদের সবার বিচারের ফরিয়াদ জানিয়েছি।

Mahedi Hasan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Skip to toolbar