,



সংবাদ শিরোনাম:
«» কুমারখালীতে স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে আহত,হাসপাতালে ভর্তি, ছাত্রদের মধ্য আতংক «» শিবচরে জাতীয় পার্টির মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা এমপি প্রার্থী মিন্টু এর নেতৃত্বে-বিএনপি টেনশনে.. «» ঢাকা-১৮আসনে জাতীয় পাটির নির্বাচনী মতবিনিময় ও প্রতিবাদ সভা উওরায় «» জাতীয় ঐক্যে’র স্টিয়ারিং কমিটি হয়েছে «» নাটোর বাগাতিপাড়ায় জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত «» বাগাতিপাড়ায় দিনব্যাপি ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় «» ইউএনও নাসরিন বানুর যোগদানের বর্ষপূর্তি বাগাতিপাড়ায় জনবান্ধব উপজেলা প্রশাসন বিনির্মাণে ভূমিকা «» দেশব্যাপী সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে… «» জাতীয় পার্টির আজম খানের গনসংযোগে হামলা আহত ২৫ কালিগন্জ… «» ঢাকা ক্লাবে জমজমাট তারার মেলা ছবির মহরত উপলক্ষে তথ্য-সংস্কৃতি-তথ্য প্রতিমন্ত্রী

দক্ষিণখানের আতঙ্ক ‘সুইচ গিয়ার গ্যাংস্টার গ্রুপে নেপথ্যে বিত্তশালী

           ( সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি দু’দল তরুণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় )

সাহাদাত হোসেন পরশ ( সমকালের অনুসন্ধানে ) রাজধানীর দক্ষিণখানের আতঙ্ক এখন কিশোর-তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা দুটি ‘গ্যাংস্টার গ্রুপ’। এসব গ্রুপের অন্তত ৬০ সদস্যের কাছে রয়েছে ‘সুইচ গিয়ার’। সুইচের মাধ্যমে চালু করা বিশেষ এই চাপাতি তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ব্যবহার করে থাকে। গ্রুপ দুটির প্রায় সব সদস্যই পকেটে করে এ ধরনের অস্ত্র বহন করে। দ্বন্দ্ব-বিরোধ দেখা দিলে নিজ নিজ এলাকায় মহড়া দেয় তারা।

সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট দক্ষিণখানে এ দুটি গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জের ধরে নিহত হয়েছে কিশোর মেহেদী হাসান শুভ (১৭)। এ হত্যাকাণ্ডেও সুইচ গিয়ার ব্যবহার করে তার ঘাড়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

সমকালের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, দক্ষিণখানের এ দুটি গ্যাংস্টার গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছে শান্ত ও তৌকির। তাদের বিরোধের জের ধরে মেহেদীকে হত্যা করা হয়েছে। মেহেদী ছিল শান্ত গ্রুপের সদস্য। দক্ষিণখানের মিলন মিয়ার ছেলে শান্ত। আর একই এলাকার ফজলে হাজির ছেলে তৌকির। মিলন মিয়া ও ফজলে হাজি দক্ষিণখানের বিত্তশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। একাধিক বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তাদের। এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে মিলন ও ফজলে হাজির মধ্যে। এ বিরোধ উত্তরাধিকারসূত্রে তাদের সন্তানদের মধ্যেও বিস্তৃত। দুই বাবার দুই সন্তান দক্ষিণখানে গড়ে তুলেছে বিশাল গ্যাংস্টার গ্রুপ।

দক্ষিণখানের একাধিক বাসিন্দা ও পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তৌকিরের গ্যাংস্টার গ্রুপের নাম ‘ইয়াংস্টার’। এই গ্রুপে অন্তত ৪০ জন সদস্য সক্রিয়। তাদের মধ্যে আছে- সাইফ, আরাফাত, সানি, আনসার, কাওসার, তৌকির, কামাল, আরিয়ান, সোহেল, সাইফুল, সিফাত, মেহরাব, মনির, আপেল প্রমুখ। শান্ত গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে- মেহেদী, নাজমুল, লিটন, আজমাইন, হোন্ডা মেহেদী, মুন্না প্রমুখ। সম্প্রতি তৌকির ও আরাফাতকে সিনিয়র হিসেবে মান্য করতে অস্বীকৃতি জানায়

শান্ত গ্রুপের নাজমুল। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত তৌকির ও আরাফাত শান্ত গ্রুপের হোন্ডা মেহেদীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। এসবের জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে ঈদুল আজহার আগে মারামারিও হয়। গত ৩১ আগস্ট জুমার নামাজ পড়ে বের হয় শান্ত গ্রুপের নাজমুল ও তার বন্ধু মেহেদী। আনোয়ারাবাগ এলাকায় তাদের দেখার সঙ্গে সঙ্গে মারধর শুরু করে তৌকির ও আরাফাত।

ওই দিন সন্ধ্যায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দক্ষিণখানে যান। সেখানে তৌকির ও শান্ত গ্রুপের সদস্যরা পৃথকভাবে উপস্থিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই অনুষ্ঠান চলার সময় কেসি হাসপাতাল এলাকায় অতর্কিতে তৌকির গ্রুপের সদস্যরা সুইচ গিয়ার নিয়ে শান্ত গ্রুপের সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। শান্ত গ্রুপের সদস্য মেহেদীর হাতে ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপায় তারা। সেখান থেকে দ্রুত মেহেদীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় আজমাইনসহ কয়েক বন্ধু। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেহেদীর ভাই জাহিদ হাসান সমকালকে বলেন, ঈদের দু’দিন পর পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসে বন্ধু নাজমুলের বাসায় উঠেছিল মেহেদী। দক্ষিণখানের দুটি গ্রুপের মধ্যে পূর্ববিরোধের জের ধরে তার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মেহেদীর বন্ধু আজমাইন সমকালকে বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তৌকিরের লোকজন তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। ঘটনার দিন আক্রমণকারী সবার হাতে ছিল বিশেষ ধরনের চাপাতি।

দক্ষিণখানে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের বসবাস। সেখানে এসব শ্রেণিভুক্ত পরিবারগুলোর বখে যাওয়া সন্তানদের মধ্যে এক ধরনের সখ্যও রয়েছে। এলাকায় বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ইভ টিজিং করা তাদের নিত্যদিনের ঘটনা। এ ছাড়া সন্ধ্যা হলেই তারা দল বেঁধে ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসায়। অনেকে ভ্রাম্যমাণ ইয়াবা বিক্রেতার কাজও করে থাকে। গ্যাংস্টার গ্রুপের অনেকেই নানা ঢঙে চুল কেটে ফেসবুকে সেসব ছবি আপলোড করে।

জানা গেছে, দুটি গ্যাংস্টার গ্রুপকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যারা অনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদেরও আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

দক্ষিণখানের এই কিশোর-তরুণদের দুটি পক্ষের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জের ধরে মেহেদী হত্যার ১০-১২ দিন আগেও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে নাজমুল দক্ষিণখান থানায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি জিডি করে। তার বিরুদ্ধে পাল্টা জিডি করেন আরেক গ্রুপের সদস্য তৌকিরের মা। তবে জিডি হলেও পুলিশ এ বিরোধ মেটাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, কিশোর ও তরুণরা গ্যাং কালচারে জড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করলেও তাদের অনেকের অভিভাবকই এসব ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখছেন না।

ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি দু’দল তরুণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়। কিছু সময় পর এক তরুণ রাস্তায় ঢলে পড়ে। তাকে ধরে কয়েকজন সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া দক্ষিণখানের গ্যাংস্টার গ্রুপের সদস্যদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের হাতে ‘সুইচ গিয়ার’ থাকায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর রক্তক্ষয়ী ঘটনা। শিগগিরই তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, কিশোর গ্যাংস্টার গ্রুপের সদস্যদের কার্যক্রম প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর। তাদের মধ্যে অনেকে এলাকা থেকে পালিয়েছে।

কিশোর-তরুণদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে মতবিরোধে খুনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। গত বছরের ৬ জানুয়ারি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে স্কুলছাত্র আদনান কবিরকে হকি স্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে কয়েক কিশোর। এ মামলার তদন্তে বের হয়ে আসে কিশোর-তরুণদের ‘গ্যাংকালচার’-এর ভয়ঙ্কর কাহিনী। ওই ঘটনার ১২ দিনের মাথায় তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ায় একই ধরনের বিরোধে খুন হয় আবদুল আজিজ। এর পর রূপনগরে কামাল হোসেন নামে আরেক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তার কয়েক দিনের মধ্যেই শেওড়াপাড়া এলাকায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় কিশোর সজীব মিয়াকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Skip to toolbar